লেখক-ভাবনা · REFLECTIONS & WRITINGS

শব্দ, শূন্যতা ও নির্জনতার খতিয়ান

কোলাহলমুখর পৃথিবীর ভিড় থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর একটি নিভৃত প্রচেষ্টা।

প্রথম ভাবনা

কেন লিখি: অক্ষরের সাথে নিভৃত বোঝাপড়া

দিনভর মানুষের ভিড়ে আমরা কত অভিনয় করে যাই। হাসিমুখে কথা বলি, কাজে ব্যস্ত থাকি, চেনা পরিচিতদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠি। কিন্তু দিনশেষে যখন ঘরের বাতি নিভিয়ে একা বসি, তখন নিজের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা টের পাওয়া যায়। কিছু দীর্ঘশ্বাস থাকে যা কাউকে মুখ ফুটে বলা যায় না। বুকের ভেতর পাথর চেপে বসলেও কাউকে ডেকে বলা যায় না যে আমি ভালো নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে মানুষ লেখার আশ্রয় নেয়।

আমি কোনো পণ্ডিত লেখক নই। কাউকে বড় কোনো তত্ত্ব শেখানোর উদ্দেশ্যেও এই খাতা খুলিনি। লিখতে বসাটা আমার কাছে মূলত নিজের সাথে বোঝাপড়া করার একটা চেষ্টা। একটি সাদা পাতার সামনে বসলে কোনো ভয় থাকে না। সেখানে কোনো বিচারক নেই, দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করার কেউ নেই, কাউকে মিথ্যা সান্ত্বনাও দিতে হয় না। না-বলা কথাগুলো যখন নিঃশব্দে কালির আঁচড়ে রূপ নেয়, বুকের ভার কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

এই কথাগুলো কোনো নামযশ বা করতালির লোভে লেখা নয়। নিজের ক্ষতের সাথে শান্তভাবে পাশাপাশি বাঁচতে শেখার ব্যক্তিগত তাগিদ থেকেই এগুলোর জন্ম। মাঝরাতে কোনো এক নিভৃত মুহূর্তে যদি কোনো পাঠক এই লাইনগুলোতে নিজের গোপন যন্ত্রণার মিল খুঁজে পান, তবে বুঝব এই একাকী পথচলায় আমরা কেউ আসলে পুরোপুরি একা নই।

দ্বিতীয় ভাবনা

শূন্যতার দর্শন: অভাব নয়, এক গভীর স্থিতি

ছোটবেলা থেকেই আমরা পূর্ণতাকে আঁকড়ে ধরতে শিখেছি। কোনো জায়গা খালি দেখলে মনে হয় কিছু একটা দিয়ে ভরাট করে ফেলতে হবে। মনে এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা নামলেই আমরা গান চালাই বা ফোনের পর্দায় ডুবে গিয়ে সেই নির্জনতাটুকু ঢাকতে চাই। শূন্যতাকে আমরা কেবলই ক্ষতি আর অপ্রাপ্তি বলে ভেবে এসেছি।

অথচ একটু ধীরেসুস্থে ভাবলে বোঝা যায়, শূন্যতাই যে কোনো কিছুকে জায়গা দেয়। ঘরের ভেতরের ফাঁকা জায়গাটা আছে বলেই সেখানে বসবাস করা যায়। মাটির পাত্রের ভেতরটা খালি না থাকলে তাতে জল রাখা যেত না। বাঁশির ফাঁপা বুক ভেদ করে হাওয়া বয়ে না গেলে সেখান থেকে কোনো সুর বের হতো না। আমাদের জীবনেও শূন্যতা কোনো অভিশাপ নয়, বরং এক শান্ত অবসরের নাম।

যে জিনিস কোনোদিনই আমার ছিল না, তা হারিয়ে ফেলার কোনো আফসোস থাকতে পারে না। যা নিজের নয় তাকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা থেকেই সব কষ্টের শুরু। যখন এই সত্যটা শান্তভাবে গ্রহণ করা যায়, তখন শূন্যতা আর ভয় দেখায় না। তখন কোলাহলের ওপারে গিয়ে এক ধরনের গভীর স্থিরতা নেমে আসে।

“যা কিছু প্রকৃতি আমাদের দিয়েছিল, তা তো একদিন প্রকৃতি ফিরিয়ে নেবেই। এই সত্যকে শান্ত চিত্তে মেনে নেওয়ার নামই মুক্তি।”
তৃতীয় ভাবনা

স্বাধীন প্রকাশনা: বাণিজ্যিক শৃঙ্খলমুক্ত পাঠশালা

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এখন পড়ার চেয়ে বিজ্ঞাপনের চিৎকার বেশি। যেকোনো পাতায় ঢুকলেই সাবস্ক্রিপশনের তাগাদা, পপ-আপের ভিড় আর ক্রমাগত নোটিফিকেশনের উপদ্রব থাকে। চারপাশের এই বাণিজ্যিক দৌড়াদৌড়ির মধ্যে কোনো লেখা তার গভীরতা নিয়ে পাঠকের মন ছুঁতে পারে না।

আমি চেয়েছি একদম শান্ত ও পরিচ্ছন্ন একটা পরিসর। যেখানে কোনো পে-ওয়াল থাকবে না, কোনো বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিংয়ের ফাঁদ থাকবে না। পাঠক এখানে এসে কেবল লেখা আর তার অনুভূতির মুখোমুখি হতে পারবেন।

পুরোনো টাইপরাইটারের ফন্টে সাজানো সাদামাটা পাতা, চোখে প্রশান্তি দেওয়া আলোছায়া এবং ধীরেসুস্থে প্রতিটি পৃষ্ঠায় সময় কাটানোর স্বাধীনতা। সাহিত্য এখানে কোনো বিক্রয়পণ্য নয়, বরং এক নির্জন মন থেকে আরেক নির্জন মনে বয়ে চলা একটা নিভৃত আলাপ।

প্রকাশিত ও ভবিষ্যতের সংকলনসমূহ

০২টি গ্রন্থ
প্রকাশিত সংকলন

শূন্যতার ভূগোল

প্রেম, জীবন ও দর্শনের কিছু অসমাপ্ত কথকতা

মানবিক প্রণয়ের আকুলতা, না-পাওয়ার অতল শূন্যতা এবং নাগরিক ক্লান্তির ভেতর দিয়ে স্টোয়িক দার্শনিক প্রশান্তিতে উপনীত হওয়ার ৩০টি আত্মোপলব্ধির বয়ান।

নতুন প্রকাশনা

শব্দহীনতার পদাবলি

অব্যক্ত অনুভূতির নিভৃত মানচিত্র

যে কথাগুলো কোনোদিন কাউকে মুখ ফুটে বলা যায় না, অথচ মনের এক কোণে আজীবন থেকে যায়, সেই না-বলা অনুভূতির সংকলন।