অধ্যায় ০১ প্রতিদিন একটি হারানোর গল্প
মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে অচেনা হয়ে যায়
মানুষ হুট করে হারিয়ে যায় না। কোনো সম্পর্কই একদিনে হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না। বিচ্ছেদ আসলে ঘটে খুব নিঃশব্দে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূরত্বের সমষ্টি দিয়ে।
এক সকালে আপনি ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, তার পাঠানো সুপ্রভাতের বার্তায় আর সেই উষ্ণতা নেই। উত্তরের অপেক্ষা আগের চেয়ে কয়েক মিনিট দীর্ঘ হলো। এরপর কয়েক ঘণ্টা, তারপর এক দিন। আপনি বুঝতেই পারলেন না কোন মুহূর্তে কথা বলার প্রবল আগ্রহটা ক্লান্তিকর কর্তব্যে রূপ নিল।
একদিন সন্ধ্যায় টিএসসি মোড়ে চায়ের দোকানে শুভ বলল, দোস্ত, মানুষ যখন দূরে চলে যেতে চায়, তখন কোনো যুক্তির প্রয়োজন হয় না। সে তখন নিজেই একটা দেয়াল তৈরি করে ফেলে। তুই যতই ধাক্কা দে না কেন, সেই দেয়ালে তোর রক্ত ঝরবে, দেয়াল সরবে না।
আমি শুভকে বললাম, কিন্তু এতদিনের স্মৃতি? এতদিনের একসাথে কাটানো বৃষ্টিভেজা বিকেলগুলো? সেগুলো কি এতই ঠুনকো?
শুভ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ম্লান হাসল। স্মৃতি শুধু একপক্ষের কাছেই ভারী পাথর হয়ে থাকে। অন্যপক্ষের কাছে তা কেবল পুরনো ক্যালেন্ডারের ছেঁড়া পাতা।
আমরা ভাবি ভালোবাসা মানে একে অপরকে বেঁধে রাখা। কিন্তু যাকে প্রতিনিয়ত বেঁধে রাখতে হয়, সে তো আসলে আগেই চলে গেছে। সে শুধু নিজের শারীরিক অস্তিত্বটুকু রেখে গেছে বাধ্যবাধকতা হিসেবে।
চলে যাওয়া মানুষের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে বড় আত্মপ্রবঞ্চনা আর কিছু নেই। যে হাত একবার ছেড়ে দিয়েছে, তাকে আবার ফিরিয়ে এনেও কোনো পূর্ণতা পাওয়া যায় না।
প্রতিদিন মানুষ কিছু না কিছু হারায়। কেউ বিশ্বাস হারায়, কেউ কথার তীব্রতা হারায়, কেউ বা হারায় নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে অন্য কারও গল্পে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখে। এই হারানোর কোনো শেষ নেই।