অধ্যায় ০৭ স্মৃতির দাগ ও পুরোনো বারান্দা
যেখানে একদা কোনো সুখের ছায়া ছিল
পুরোনো বাড়ির বারান্দাগুলোর একটা অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে। সেখানে দাঁড়ালে সময় থমকে যায়।
মনে পড়ে, সেই বিকেলগুলোতে যখন আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যেত, ঠান্ডা বাতাস ধুলো উড়িয়ে নিয়ে যেত, আমরা দুজন সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। কোনো কথা ছিল না। শুধু বাতাসের শব্দ আর বৃষ্টি শুরুর আগের সেই মাটির ঘ্রাণ।
সেই মানুষটি আজ বহুদূরে। তার জীবনে হয়তো এখন অন্য কোনো বারান্দা আছে, অন্য কারও সাথে বৃষ্টি দেখার বিকেল আছে। কিন্তু এই বারান্দাটা আজও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিলগুলোতে মরচে পড়েছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, কিন্তু সেই বিকেলের মায়াটা আজও কোথাও মিলিয়ে যায়নি।
বস্তু বা স্থানগুলোর কোনো দোষ থাকে না। দোষ থাকে আমাদের অনুভূতির, যা স্থানগুলোর গায়ে স্মৃতির আঠা লাগিয়ে চিরস্থায়ী করে রাখে।
মানুষ চলে যায়, সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, কিন্তু দৃশ্যগুলো কখনো অতীত হয় না। তারা বর্তমানের ভেতর ছায়ার মতো নিঃশব্দে বাস করতে থাকে।
আমরা যখন পুরোনো জায়গায় যাই, আমরা আসলে পুরোনো মানুষকে খুঁজি না। আমরা খুঁজি সেই সময়ের নিজেদের, যে তখন নিঃশর্তভাবে ভালোবাসতে জানত এবং বিশ্বাস করতে দ্বিধা করত না।