পর্ব ৩: দর্শন, স্টোয়িক আত্মোপলব্ধি ও মুক্তি

অধ্যায় ২৩ প্রয়োজনের পৃথিবী ও নিঃস্বার্থতার খোঁজে

এপিকটেটাসের ডিসকোর্স: বন্ধুত্ব ও স্বার্থের সীমানা

৬ মিনিট পাঠ

টঙের দোকানে রাত এগারোটায় যখন চা খেতে গিয়েছিলাম, আবির হঠাৎ গম্ভীর গলায় বলল, জানিস, মানুষ আসলে কাউকে ভালোবাসে না। মানুষ কেবল ভালোবাসে তার নিজের প্রয়োজনকে।

আমি একটু অবাক হয়ে তাকালাম। এত বড় অভিযোগ?

আবির বলল, এপিকটেটাসের ডিসকোর্স পড়েছিস কখনো? বন্ধুত্ব নিয়ে তার একটা বিখ্যাত অংশ আছে। এপিকটেটাস বলেছিলেন, কোনো জীবন্ত প্রাণীই নিজের উপকারের চেয়ে অন্য কাউকে বেশি ভালোবাসতে পারে না। পিতা, ভাই, সন্তান, সবাই তখন পর্যন্ত প্রিয়, যতক্ষণ তারা আমাদের উপকারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। যেই মুহূর্তে প্রয়োজন আর সম্পর্কের মাঝে সংঘাত বাঁধে, মানুষ ঈশ্বরের মন্দিরও ভেঙে ফেলতে দ্বিধা করে না।

আমরা বন্ধুত্বের গল্প ফাঁদি, আজীবন একসাথে থাকার কসম খাই। কিন্তু যখনই স্বার্থে আঘাত লাগে, তখনই মানুষ তার আদিম রূপ ধারণ করে।

আমি বললাম, তাহলে কি পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলে কিছু নেই?

আবির চায়ের কাপটা নামিয়ে রেখে বলল, আছে। কিন্তু তা তখনই সম্ভব যখন মানুষ নিজের কল্যাণকে বস্তু বা সুনামের মাঝে না খুঁজে খুঁজে পায় সৎগুণ ও আত্মমর্যাদার ভেতর। যে মানুষ জানে তার আনন্দ কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, একমাত্র সেই মানুষই অন্যকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারে।

অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা কমিয়ে দেওয়াই সম্পর্কের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার একমাত্র গোপন সূত্র।

যখন আপনি কারো কাছে কোনো প্রতিদান আশা করবেন না, তখন তার সামান্য উপস্থিতিও আপনাকে আনন্দ দেবে। আর সে চলে গেলেও আপনি ভেঙে পড়বেন না।