অধ্যায় ১১ মুখোশের ক্লান্তি ও ভালো থাকার ভান
পৃথিবীর সামনে স্বাভাবিক হওয়ার অভিনয়
কেমন আছো?
প্রতিদিন এই প্রশ্নটা কতবার শুনতে হয় আমাদের? আর আমরা কত অনায়াসে, এক মুহূর্তও না ভেবে ঠোঁটে একটা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলি: হ্যাঁ, ভালো আছি। সবকিছু ঠিকঠাক।
অথচ সত্যটা হলো, ভেতরে সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বিষণ্নতার সবচেয়ে ক্লান্তিকর অংশ হলো স্বাভাবিক থাকার অভিনয় চালিয়ে যাওয়া। অফিসে মিটিং করতে হয়, প্রজেক্ট জমা দিতে হয়, বন্ধুদের মেসেজের উত্তর দিতে হয় উপযুক্ত ইমোজি ব্যবহার করে। কারণ কেউ দুর্বল মানুষকে পছন্দ করে না। বিষণ্নতার গল্প কারও সিভি-তে লেখা যায় না।
একদিন আমার এক বড় ভাই বলেছিলেন, রন্তি, তুই এত সুন্দর লেখিস, কিন্তু তোর লেখার ভেতর এত ক্ষত কেন? তুই কি ভালো নেই?
আমি যথারীতি হেসে বলেছিলাম, আরে না ভাই, জাস্ট কথার খেলা।
কিন্তু আমি জানতাম, আমি আসলে একটা বন্ধ ঘরে বাস করি যার দেয়ালে কোনো দরজা নেই। যেখানে নিজের ভেতরের আলো আর অন্ধকার প্রতিদিন একে অপরকে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করছে।
মানুষ যখন নিজের দুঃখকে অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই সে ‘ভালো আছি’ বলার সহজ পথ বেছে নেয়।
এই ভান করতে করতেই মানুষ একদিন এমন এক জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে সে নিজের আসল মুখটাই আর চিনতে পারে না। মুখোশটাই তখন তার একমাত্র চামড়া হয়ে দাঁড়ায়।