অধ্যায় ০৩ স্পর্শের বাইরে যা সত্য
উপস্থিতি যখন দূরত্বের চেয়ে বেশি একা করে দেয়
আমরা প্রায়ই ভাবি, কাউকে স্পর্শ করতে পারা মানেই তাকে কাছে পাওয়া। কোনো রেস্তোরাঁয় মুখোমুখি বসা মানেই বুঝি দূরত্ব ঘুচে যাওয়া।
কিন্তু জীবনে এমনও বিকেল আসে, যখন প্রিয় মানুষটা ঠিক আপনার চোখের সামনে বসে কফির কাপে চামচ নাড়ছে, আপনি তার আঙুলের রেখা দেখতে পাচ্ছেন, অথচ বুকের ভেতর অদ্ভুত এক হাহাকার জন্ম নেয়। মনে হয়, সে আসলে লাখ মাইল দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। তার মন অন্য কোনো ভাবনায় বন্দি, তার চোখ তাকিয়ে আছে অথচ সে আপনাকে দেখছে না।
শারীরিক নৈকট্য মনের দূরত্বকে কোনোদিন ঢাকতে পারে না। বরং তা দূরত্বকে আরও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দেয়।
একদিন নীলক্ষেতের পুরনো বইয়ের গলিতে দাঁড়িয়ে এক বন্ধু বলেছিল, জানিস, একাকিত্বের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ কী? একা ঘরে শুয়ে থাকা নয়। বরং যার সাথে তুই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করার কথা ছিল, তার পাশে বসে থেকেও নিজেকে সম্পূর্ণ অচেনা মনে হওয়া।
স্পর্শ কেবল দেহের সীমানা ছুঁতে পারে। কিন্তু আত্মার যে জায়গাগুলো নিঃসঙ্গতায় ডুবে থাকে, সেখানে কেবল অনুভূতি ছাড়া আর কেউ পৌঁছাতে পারে না।
যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের শব্দগুলো আর সামনের মানুষটার হৃদয়ে কোনো অনুরণন তোলে না, তখনই বোঝা যায় সম্পর্কের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। তখন শরীর দিয়ে সেই শূন্যতা ঢাকার চেষ্টা করা অর্থহীন।