পর্ব ২: জীবনের ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গ পদযাত্রা

অধ্যায় ১৩ রাত তিনটের স্বগতোক্তি

অনিদ্রা, স্মৃতির মিছিল ও আয়নার মুখোমুখি

৫ মিনিট পাঠ

রাত তিনটা হলো দিনের সবচেয়ে নির্দয় সময়।

এই সময় পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকে, অথচ কিছু মানুষের মস্তিষ্ক ঠিক এক উন্মত্ত কারখানার মতো চালু হয়ে যায়। সিলিং ফ্যানের একটানা ঘোরার শব্দ, দেয়ালঘড়ির টিকটিক আওয়াজ, আর নিঃশ্বাসের ভারী সুর, সবকিছু মিলে এক ভৌতিক নীরবতা তৈরি করে।

রাত তিনটায় মানুষ নিজেকে ফাঁকি দিতে পারে না। দিনের বেলা যে যুক্তিগুলো দিয়ে মনকে প্রবোধ দেওয়া হয়েছিল: যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে, আমি তো ভালোই আছি, রাত তিনটায় সেই যুক্তিগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

তখন মনে পড়ে জীবনের সেই ভুল সিদ্ধান্তগুলোর কথা। মনে পড়ে সেই মানুষগুলোকে, যাদের একদিন জীবনের চেয়েও বেশি চেয়েছিলাম। মনে পড়ে ফেলে আসা সেই বন্ধুদের, যারা আজ যোগাযোগের বাইরে চলে গেছে।

অনিদ্রা আসলে চোখের অসুখ নয়। অনিদ্রা হলো মনের ভেতর জমে থাকা না-বলা কথাগুলোর বিদ্রোহ।

অন্ধকারে বসে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে শুনতে তখন উপলব্ধি হয়, জীবন তো আসলে এভাবেই কেটে যাবে। একাকীত্বের সাথে যুদ্ধ করে নয়, বরং এই রাত তিনটার শূন্যতাকে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নেওয়ার মাঝেই হয়তো শেষ শান্তিটুকু লুকিয়ে আছে।