তোমার দিকে চেয়ে ঈশ্বরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম
প্রেম, অপ্রাপ্তি ও অবিনাশী স্মৃতির উপাখ্যান
“ঈশ্বর আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য হাতে বারবার, তবু তোমার মুখে ছিল এক অলৌকিক অধিকার। পাওয়ার ভেতর দিয়ে যা বাঁচে তা নশ্বর, না-পাওয়ার অতল সমুদ্র পেরিয়ে যা টিকে থাকে, মূলত তা-ই অবিনশ্বর।”
অধ্যায়সমূহের সূচিপত্র
শহরের সমস্ত ট্রাফিক থেমে যাওয়ার পর
কোলাহলের অবসানে তোমার স্মৃতির একচ্ছত্র আধিপত্য
ব্যালকনির মরচে পড়া গ্রিল ও কাচের চুড়ির ঘ্রাণ
মধ্যরাতের বাতাসে তোমার অস্তিত্বের অমোঘ উপস্থিতি
প্রথম দেখার সেই তির্যক রোদ
যে আলোয় আমার বহুদিনের অন্ধকার পরাজিত হয়েছিল
আঙুল ছুঁতে না পারার আবহমান শীত
দূরত্বই হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে নিখুঁত রূপ
ট্রামের জানালায় রেখে আসা চোখ
চলে যাওয়ার দৃশ্যে কোনো অলৌকিক সান্ত্বনা থাকে না
ফোনের নীল আলো ও নিভে যাওয়া একটি নাম
নিস্তব্ধতার মাঝে একা জেগে থাকার দীর্ঘশ্বাস
যাকে ভালোবেসে কোনো স্বর্গে যাওয়া যায় না
নরকের শাস্তি মেনে নিয়েও তোমাকে চেয়েছিলাম
মধ্যরাতের ফুটপাথ ও একজোড়া ভারী জুতো
শহরের নিস্তব্ধতায় কেবল নিজের ছায়াকে বহন করা
তোমার না-থাকার শব্দ
শূন্যতাও যে এত তীব্র শব্দে বাজতে পারে
চায়ের ঠান্ডা কাপ ও কিছু পোড়া ম্যাচের কাঠি
একটি বিকেলের সমস্ত অবসান ও স্তব্ধতা
অন্য কোনো বারান্দায় তোমার ভিজে চুল
যে দৃশ্য দেখার অধিকার আমি অনেক আগেই হারিয়েছি
কেউ কথা রাখেনি, শহরও না
প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি হয়
বুকের বাঁ পাশের সেই অদৃশ্য পাথর
অভ্যাসে পরিণত হওয়া ব্যথার কোনো নিরাময় থাকে না
পুরোনো ডায়েরির হলদেটে পাতা
যেখানে প্রতিটি শব্দের নিচে তোমার নিঃশ্বাস জমে আছে
বৃষ্টিভেজা জানলার কাচ ও একটি আঙুল
অপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র থাকে না
ট্রেন ছাড়ার শেষ হুইসেল
স্থায়ী বিচ্ছেদের মুহূর্তে কোনো নাটকীয়তার প্রয়োজন হয় না
অসময়ের ফোন কল ও স্তব্ধতা
যে কথাগুলো কোনোদিন বলা হয়ে ওঠেনি
বইমেলার ধুলো ও একটি চেনা চাদর
ভিড়ের মাঝে আচমকা চিনে ফেলার তীব্র অস্থিরতা
রেডিওতে বেজে ওঠা সেই পুরোনো গান
স্মৃতিগুলো কখনো কখনো অতর্কিতে ছুরির মতো বিঁধে যায়
তেত্রিশটি অসমাপ্ত স্বীকারোক্তি
যা কোনোদিন কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না
আমি জ্ঞানী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রেমিক হয়ে রইলাম
সমস্ত দর্শনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা তোমার একটি হাসির কাছে
শূন্যতা দিয়ে ক্ষত ঢাকা যায় না
নিজেকে ভুলিয়ে রাখার সমস্ত আত্মপ্রবঞ্চনা
বইয়ের পাতা উল্টাতে গিয়ে তোমার গন্ধ
স্মৃতিরা কখনো কখনো অলৌকিক উপায়ে ফিরে আসে
যে স্মৃতি কোনোদিন পাথর হয় না
সময় যাকে স্পর্শ করতে পারে না
অনাসক্তি এক করুণ মিথ্যাচার
যে হৃদয় ভালোবাসতে জানে, সে উদাসীন হতে পারে না
তোমার হাসির কাছে পরাভূত সহস্র ব্যাকরণ
যুক্তির সমস্ত অহংকার যেখানে খসে পড়ে
শহরের শেষ বাতি যখন নিভে যায়
অন্ধকারের সাথে এক নিভৃত বোঝাপড়া
পোড়া কাগজের ধোঁয়া ও অসম্পূর্ণ বাক্য
ভস্মের ভেতরেও যে অনুভূতিগুলো অমর থেকে যায়
একাকীত্বের কোনো মহত্ত্ব নেই
নিঃসঙ্গতা কেবল বেঁচে থাকার একটি বাধ্যতামূলক অভ্যাস
দর্শনের পরাজয় ও বোবা ট্রাফিক
জীবনের সমস্ত জটিল অঙ্ক যেখানে শূন্যে এসে দাঁড়ায়
কোনো নালিশ নেই, কোনো অধিকারও নয়
ভালোবাসা যখন দাবি ছাড়িয়ে শান্ত নদীর মতো হয়ে ওঠে
তুমি যেখানেই আলো দাও, সুখে থেকো
অনন্ত দূর থেকেও তোমার মঙ্গলের অবিরাম প্রার্থনা
এক জীবনের সমস্ত ঋণ শোধ হয়ে গেল
পাওয়ার কোনো আশা না রেখে নিঃস্বার্থ হয়ে ওঠার মুক্তি
দূরত্বের নীল সমুদ্র ও একটি নৌকা
যে পারাপারের কোনো প্রয়োজন ফুরায় না
ক্ষমা এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা
সমস্ত ক্ষোভ আর যন্ত্রণাকে নিঃশব্দে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া
বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়া শেষ মানচিত্র
যেখানে হারানোর আর কোনো অবশিষ্ট চিহ্ন থাকে না
তোমার রেখে যাওয়া একটি পুরোনো পেন্সিল
স্মৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র চিহ্নের অলৌকিক অমরত্ব
শেষ পর্যন্ত তোমাকেই ভালোবেসেছিলাম
চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক অকপট স্বীকারোক্তি
অন্ধকারের শেষ বাতিদানে শুধু তুমি
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যে আলো কোনোদিন নেভে না
উপসংহার: তোমার দিকে চেয়ে ঈশ্বরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম
যে ভালোবাসার কোনো বিনাশ নেই, যার কোনো শেষ নেই