অধ্যায় ১০অন্য কারো হয়ে যাওয়া মানুষটির জন্য
কোনো অধিকার নেই, কোনো দাবি নেই, শুধু দূর থেকে এক শান্ত শুভকামনা
মোবাইলের স্ক্রিনে হঠাৎ ভেসে ওঠা একটি ছবি দেখেই আঙুলটা বরফের মতো জমে গেল। ছবির ভেতর চেনা মানুষটি অন্য কারো কাঁধে মাথা রেখে খুব নিশ্চিন্তে হাসছে, আর তার পরনে উৎসবের রঙিন পোশাক। ছবিটা জুম করে তার চোখের দিকে তাকালে পেটের ভেতর একটা চিনচিনে ব্যথা পাক দিয়ে ওঠে, কিন্তু পরমুহূর্তেই বুক চিরে বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত, নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস।
ভালোবাসার মানুষটি যখন চিরতরে অন্য কারো হয়ে যায়, তখন প্রথম কিছুদিন মানুষের ভেতর এক তীব্র ভাঙচুর চলে। মনে হয় পৃথিবীটা বোধহয় এখানেই থেমে গেল। কিন্তু শোকের সেই প্রাথমিক ঝড়টুকু কেটে যাওয়ার পর সংবেদনশীল মানুষের মনে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। তখন আর কোনো রাগ থাকে না, কোনো ঈর্ষা বা অভিসম্পাত থাকে না। কারণ সে ততদিনে বুঝে গেছে, ভালোবাসা মানে কাউকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা নয়; ভালোবাসা মানে মানুষটি যেখানেই থাকুক, তার ভালো থাকাটুকু কামনা করা।
রাস্তায় বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে হঠাৎ যদি তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়, তখন বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে ওঠে ঠিকই, কিন্তু মুখে ফুটে ওঠে এক শান্ত ও সৌজন্যমূলক হাসি। দূর থেকে দাঁড়িয়ে যখন দেখা যায়, তার নতুন সঙ্গীটি তার যত্ন নিচ্ছে, ভিড়ের ভেতর তার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখছে, তখন মনের এক কোণে এক অদ্ভুত স্বস্তি লাগে। মনে হয়, যাক, আমি হয়তো তাকে আমার মতো করে রাখতে পারিনি, কিন্তু মানুষটা অন্তত একা নেই, ভালো আছে।
অধিকার ছেড়ে দেওয়ার পর যে ভালোবাসা অবশিষ্ট থাকে, তার কোনো নাম পৃথিবীর অভিধানে নেই। সেখানে কোনো পাওয়ার আশা নেই, ফিরে আসার অপেক্ষা নেই, এমনকি নিজের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার তাগিদও নেই। অন্য কারো হয়ে যাওয়া মানুষটির জন্য বুকের এক কোণে শুধু সারা জীবন একটি প্রদীপ জ্বালানো থাকে। দূর থেকে কেবল একটিই প্রার্থনা ঝরে পড়ে: তুমি যার ঘরেই থাকো, তোমার যেন কোনোদিন আমার মতো একা হয়ে ছাদে দাঁড়াতে না হয়।