পর্ব ২: নাগরিক ক্লান্তি, মুখোশ ও নীল আলোর ফাঁদ

অধ্যায় ১৯অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গোপন ব্যাকুলতা

আত্মহনন নয়, কেবল কয়েকটা দিনের জন্য চেনা জগৎ থেকে সম্পূর্ণ মুছে থাকার ইচ্ছা

৪ মিনিট পাঠ

সকালে ঘুম ভাঙার পর অ্যালার্মের শব্দে যখন বুকটা ধড়ফড় করে ওঠে, তখন মাঝেমধ্যে মনে হয়, ইস, আজ যদি আমি হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারতাম! এ কোনো মরে যাওয়ার ইচ্ছা নয়, আত্মহননের চিন্তাও নয়; এ কেবল নিজের নাম, পরিচয় এবং প্রতিদিনের হাজারটা দায়িত্বের খাঁচা থেকে কিছুদিনের জন্য সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার এক তীব্র শারীরিক ব্যাকুলতা।

মানুষের অস্তিত্বের ওজন বড় ভারী। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নির্দিষ্ট একজন মানুষ হয়ে ওঠা, কারো সন্তান, কারো সঙ্গী, কারো কর্মচারী হিসেবে নিজের ভূমিকাগুলো নিখুঁতভাবে পালন করে যাওয়া, একসময় অসহ্য হয়ে ওঠে। তখন ইচ্ছে করে ফোনটা বন্ধ করে দিয়ে এমন কোনো অচেনা মফস্বল শহরের সস্তা হোটেলে গিয়ে উঠতে, যেখানে কেউ আমার নাম জানে না, কেউ আমার কাছে কোনো জবাবদিহি চায় না।

রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যখন কেউ আমাদের চিনতে পারে না, তখন যে কী অদ্ভুত এক মুক্তির আনন্দ হয়, তা কেবল ক্লান্ত মানুষই জানে। চেনা জগতের মানুষগুলো আমাদের ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু তাদের ভালোবাসার সাথে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রত্যাশার দড়ি। সেই দড়ির টানে আমাদের রক্ত বেরিয়ে আসে। আমরা চাই এমন এক শূন্যতা, যেখানে আমাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কারো জীবনে কোনো ঢেউ তুলবে না।

কিন্তু বাস্তবে মানুষ কোথাও পালাতে পারে না। বিছানায় শুয়ে পাঁচ মিনিট ওই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সুখটুকু কল্পনা করার পরেই সে আবার চাদর সরিয়ে উঠে বসে। দাঁত ব্রাশ করে, কাপড় পরে এবং নিজের সেই চিরচেনা নাম ও পরিচয়ের জোয়ালটা কাঁধে তুলে নিয়ে সদর দরজা খুলে রাস্তায় নামে। পালানোর স্বপ্নটুকু পড়ে থাকে তার মাথার বালিশের নিচে।