পর্ব ৪: নৈঃশব্দ্যের দর্শন, আত্ম-কৌতুক ও মুক্তি

অধ্যায় ৪৩অভিশাপই যেখানে আশীর্বাদ

দুঃখকে কাব্যে রূপ দেওয়ার শক্তি, কবির অভিশপ্ত একাকিত্বই তার পরম সম্পদ

৪ মিনিট পাঠ

যে মানুষটির চামড়া অন্য দশজন মানুষের চেয়ে একটু বেশি পাতলা, যে রাস্তার কুকুরের কষ্ট দেখলেও রাতে ভাত খেতে পারে না, কিংবা কারো গলার স্বরের সামান্য পরিবর্তনেই যার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়, সাধারণ পৃথিবীর চোখে সে এক অভিশপ্ত মানুষ। সবাই তাকে বলে, এত নরম হলে এই কঠিন দুনিয়ায় টিকবে কী করে? একটু পাথর হতে শেখো।

সংবেদনশীলতা ও একাকিত্ব সত্যিই প্রথম জীবনে এক ভয়ংকর অভিশাপের মতো মনে হয়। যখন চারপাশের ভোঁতা মানুষগুলো অনায়াসে মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে দিব্যি ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়ায়, তখন সংবেদনশীল মানুষটি নিজের ঘরে বসে অন্যের দেওয়া আঘাতের বিষ নীলকণ্ঠের মতো পান করে। তার মনে হয়, কেন ঈশ্বর আমাকে অন্যদের মতো অনুভূতিহীন করে গড়লেন না? কেন আমি সবকিছু এত গভীরভাবে অনুভব করি?

কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে এসে সে আবিষ্কার করে, তার এই তথাকথিত অভিশাপই আসলে তার সবচেয়ে বড় রাজমুকুট। কারণ ওই ভোঁতা মানুষগুলো যেমন তীব্র কষ্ট পায় না, তেমনি তারা কোনোদিন ভোরের শিশিরের সৌন্দর্য বা হেমন্তের নক্ষত্রের ভাষাও বুঝতে পারে না। তাদের জীবন কাটে কেবল খাওয়া, ঘুম আর হিসাব-নিকাশের স্থূল বৃত্তে।

অন্যদিকে যে মানুষটি তার নিঃসঙ্গতার আগুনে পুড়েছে, সে তার সেই পোড়া কয়লা দিয়েই একদিন হীরের জন্ম দেয়। তার না-বলা কথাগুলোই হয়ে ওঠে কবিতা, তার একাকিত্বই হয়ে ওঠে দর্শন। সে বুঝতে পারে, পৃথিবীতে সবাই বণিক হতে আসে না; কাউকে না কাউকে তো এই জগতের সমস্ত অব্যক্ত বেদনা নিজের বুকে ধারণ করে তাকে শিল্পে রূপান্তর করার জন্য একা হয়ে জন্মাতে হয়।