অধ্যায় ৩৮হারিয়ে যাওয়ার পর নতুন পথ
পথ হারানোর পরেই মানুষ নিজের আসল রূপ দেখতে পায়
জীবনের চেনা মানচিত্রটা যখন হঠাৎ হাত থেকে ছিঁড়েখুঁড়ে উড়ে যায় এবং চারপাশে তাকিয়ে দেখা যায় চেনা একটি মুখও আর অবশিষ্ট নেই, তখন প্রথমটায় পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, মনে হয় এবার বুঝি এই অন্ধকার জঙ্গলেই পচে মরতে হবে। কিন্তু ভয়ের সেই প্রথম ধাক্কাটা সামলে মানুষ যখন মাটিতে বসে পড়ে লম্বা একটা শ্বাস নেয়, তখন সে আবিষ্কার করে, পথ হারানোর মতো বড় মুক্তি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।
যতক্ষণ আমরা চেনা পথে থাকি, ততক্ষণ আমরা আসলে অন্যের তৈরি করা নিয়মের দাস হয়ে থাকি। কোন মোড়ে ডানে ঘুরতে হবে, কোথায় থামতে হবে, তার সবটাই আমাদের পূর্বপুরুষ বা সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা কেবল চোখ বন্ধ করে আগের মানুষের পায়ের ছাপের ওপর পা ফেলে এগিয়ে চলি। কিন্তু বড় কোনো বিপর্যয় এসে যখন আমাদের সেই চেনা রাস্তা থেকে ধাক্কা মেরে ছিটকে ফেলে দেয়, তখনই প্রথমবার আমাদের নিজেদের চোখ খুলে তাকাতে হয়।
যার সব হারিয়ে গেছে, তার আর হারানোর ভয় থাকে না। যে সামাজিক সম্মান চলে গেছে, তা আর রক্ষা করার তাগিদ থাকে না। এই যে শূন্য থেকে আবার শুরু করার বিন্দু, এখানে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রথমবার নিজের আসল শক্তির মুখোমুখি হয়। সে তখন দেখে, এতদিন সে যে খুঁটিগুলোকে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, সেগুলো ছাড়াও সে দিব্যি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
পথ হারালেই তো মানুষ নতুন পথের সন্ধান পায়। কলম্বাস দিক ভুল করেছিলেন বলেই নতুন মহাদেশের দেখা পেয়েছিলেন। আমাদের জীবনের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক বা ধসে যাওয়া স্বপ্নগুলোও আসলে আমাদের ভুল গন্তব্য থেকে সরিয়ে আমাদের নিজস্ব সত্যিকারের পথের দিকে ঠেলে দেয়। সব হারানোর পরেই মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়।