পর্ব ৪: নৈঃশব্দ্যের দর্শন, আত্ম-কৌতুক ও মুক্তি

অধ্যায় ৩৯নীরবতায় যৌথ সহাবস্থান

দুজন মানুষের কোনো কথা না বলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বাচ্ছন্দ্যে বসে থাকার পবিত্রতা

৪ মিনিট পাঠ

বারান্দায় দুটি বেতের চেয়ার পাতা। বাইরে ঝিরঝির করে বাতাস বইছে, আর দুজন মানুষ পাশাপাশি বসে আছে গত দেড় ঘণ্টা ধরে, অথচ কারো মুখ দিয়ে একটি শব্দও বেরোয়নি। এই নীরবতার ভেতর কোনো অস্বস্তি নেই, কোনো রাগ নেই, কোনো কী বলব ভেবে না পাওয়ার জড়তা নেই। শুধু দুটি মানুষের শান্ত নিঃশ্বাসের শব্দ বাতাসে মিশে এক পরম আশ্রয়ের জন্ম দিয়েছে।

মানুষের সম্পর্কের গভীরতা মাপা হয় না তারা কতক্ষণ ধরে কথা বলতে পারে তা দিয়ে; বরং তা মাপা হয় তারা কতক্ষণ কোনো কথা না বলেও একে অপরের পাশে স্বস্তিতে বসে থাকতে পারে তা দিয়ে। যেখানে সম্পর্কটা মেকি বা কেবলই সামাজিকতার, সেখানে দুই মিনিট চুপ করে থাকলেই মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। তখন জোর করে আবহাওয়া, রাজনীতি বা পরচর্চা টেনে এনে সেই শূন্যতা ভরাট করতে হয়। কারণ তারা নীরবতাকে ভয় পায়; নীরব হলেই যে তাদের মধ্যকার দূরত্বটা নগ্ন হয়ে বেরিয়ে পড়বে!

কিন্তু যেখানে দুটি আত্মা সত্যিকারের অর্থে একে অপরকে স্পর্শ করেছে, সেখানে শব্দের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। একজন হয়তো বই পড়ছে, অন্যজন চুপচাপ আকাশ দেখছে; কিংবা দুজনেই চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চুপ করে বসে আছে। মাঝখানে কোনো কথা নেই, তবু এক অদৃশ্য সুতো দিয়ে একজনের শান্তি অন্যজনের বুকের ভেতর প্রবাহিত হচ্ছে।

জীবনের সমস্ত কোলাহল ও তর্কের শেষে মানুষ আসলে এমন একজন মানুষেরই খোঁজ করে, যার সামনে বসে কথা বলার কোনো চাপ থাকবে না। যার পাশে বসে নিজের সমস্ত না-বলা কথাগুলোকে বুক থেকে নামিয়ে রেখে কেবল চুপ করে থাকা যাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নীরবতার এই যৌথ সহাবস্থানই হলো পৃথিবীতে মানুষের পাওয়া সর্বোচ্চ ভালোবাসা।