পর্ব ২: নাগরিক ক্লান্তি, মুখোশ ও নীল আলোর ফাঁদ

অধ্যায় ১৬ইমপোস্টার সিন্ড্রোম ও কাঁচের ঘর

পৃথিবী ভাবছে আমি কত সফল, অথচ বুকের ভেতর ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক

৪ মিনিট পাঠ

মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন সবাই করতালি দিচ্ছে কিংবা অফিসের বড় টেবিলে বসে যখন আপনার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই বুকের ভেতর একটা চোরের মতো ভয় ঢুকে পড়ে। হাতের তালু ঘেমে ওঠে, হাসির আড়ালে ঠোঁট শুকিয়ে যায় আর মনে হয়, এই বুঝি কেউ একজন ভিড় থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আঙুল তুলে বলবে, তোমরা যাকে এত বড় ভাবছ, ও আসলে একটা ফাঁপা মানুষ, ও কিছুই জানে না।

পৃথিবীর চোখে সফল হওয়া মানুষগুলোর এক বড় অংশ এই গোপন আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যায়। বাইরের জগতের কাছে তাদের জীবনটা এক ঝকঝকে কাঁচের ঘরের মতো সুন্দর ও ঈর্ষণীয়। কিন্তু ঘরের ভেতরে বসে থাকা মানুষটি জানে, সে কতটা ভঙ্গুর, কতটা অসহায়। নিজের অর্জিত সমস্ত সাফল্যকে তার কাছে মনে হয় নিছক কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা কাকতালীয় ঘটনা। সে সারাক্ষণ ভয়ে থাকে, কবে তার এই যোগ্যতার মুখোশটা খুলে পড়বে এবং সবাই তার আসল শূন্যতাটুকু দেখে ফেলবে।

এই ভয়ের কারণে মানুষ কাউকে নিজের কাছে আসতে দেয় না। কারণ কাছে এলেই তো তার দুর্বলতা ধরা পড়ে যাবে। সে তখন আরও বেশি কাজের ভেতর ডুবে যায়, আরও বেশি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যতই সে ওপরে ওঠে, নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়টা ততই তীব্র হতে থাকে। প্রশংসা তাকে আনন্দ দেয় না, বরং তার কাঁধের ওপর প্রত্যাশার বোঝাটাকে আরও কয়েক মণ বাড়িয়ে দেয়।

দিনশেষে এই মানুষগুলো ভীষণ একা। কারণ তারা নিজেদের ব্যর্থতার কথা কাউকে বলতে পারে না, আবার সাফল্যের আনন্দটুকুও উপভোগ করতে পারে না। কাঁচের ঘরের ভেতর বসে তারা কেবল প্রহর গোনে, কবে একটা পাথর এসে এই সমস্ত মেকি আয়োজন ভেঙে চুরমার করে দেবে এবং তারা এই সফল হওয়ার নিষ্ঠুর দায় থেকে মুক্তি পাবে।