অধ্যায় ৪১ক্ষতদের ভালোবেসে বাঁচা
শরীরের আর মনের দাগগুলো মুছে ফেলার নয়, ওগুলো টিকে থাকার স্মারক
হাতের কব্জির কাছে বা কপালের কোণে ছোটবেলায় কেটে যাওয়া পুরনো দাগটার ওপর আঙুল বোলালে চামড়াটা একটু উঁচু ও মসৃণ মনে হয়। সেখানে এখন আর কোনো ব্যথা নেই, কোনো রক্তপাত নেই, শুধু সাদাটে একটা রেখা চিরকালের মতো বসে গেছে। আমাদের মনের ভেতরেও ঠিক এমন অসংখ্য সাদাটে দাগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, যেগুলোকে আমরা সারাজীবন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
আমরা কেন আমাদের ক্ষতগুলোকে নিয়ে এত লজ্জা পাই? কেন আমরা ভাবি যে একজন নিখুঁত মানুষ মানেই তার কোনো অতীত থাকবে না, কোনো ভাঙনের দাগ থাকবে না? আসলে যে মানুষের শরীরে বা মনে কোনো কাটাছেঁড়ার দাগ নেই, সে তো কোনোদিন জীবনযুদ্ধে নামেইনি; সে তো কেবল কাঁচের বাক্সের ভেতর তুলোয় মুড়ে রাখা এক নির্জীব পুতুল।
ক্ষত হলো আমাদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণপত্র। মনের প্রতিটি দাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একদিন এক ভয়ংকর ঝড় আমাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে এসেছিল; আমাদের রক্ত ঝরেছিল, আমরা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা মরে যাইনি, আমরা টিকে গেছি। ক্ষত হলো ক্ষতের জায়গায় গজিয়ে ওঠা নতুন ও আরও শক্ত চামড়া।
তাই জীবনের এই অপরাহ্ণে এসে নিজের পুরনো ব্যর্থতা, ভুল প্রেম এবং প্রতারিত হওয়ার দাগগুলোকে আর মেকআপ দিয়ে ঢাকার প্রয়োজন নেই। বরং পরম মমতায় ওই দাগগুলোর ওপর হাত বুলিয়ে নিজেকে বলা উচিত, এই ভাঙচুরটুকু হয়েছিল বলেই আজ আমি এতটা গভীর, এতটা মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছি। ক্ষতকে যে ভালোবাসতে শেখে, পৃথিবীর কোনো অস্ত্রই তাকে আর নতুন করে আহত করতে পারে না।