অধ্যায় ৩৬কাউকে প্রমাণ করার কিছু নেই
সঠিক প্রমাণের ক্লান্তি থেকে মুক্তি, পৃথিবী যা ভাবে ভাবুক নিজের শান্তিতে ফেরা
তর্কের মাঝখানে গলার রগ ফুলিয়ে যখন আমরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য চিৎকার করতে থাকি, তখন হঠাৎ গলার স্বরটা ভেঙে যায় আর বুকটা হাঁপরের মতো ওঠানামা করে। সামনের মানুষটির পাথরের মতো মুখের দিকে তাকিয়ে তখন হঠাৎ মনে হয়, আমি কার কাছে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য এভাবে নিজের আয়ু ক্ষয় করছি? যে আমাকে ভুল বুঝবে বলে মনস্থির করেই রেখেছে, ঈশ্বর স্বয়ং নিচে নেমে এসে সাক্ষ্য দিলেও কি তার মন বদলাবে?মানুষের জীবনের অর্ধেকটা সময়ই নষ্ট হয়ে যায় অন্যের চোখে নিজেকে ভালো এবং সঠিক প্রমাণ করার প্রাণান্তকর চেষ্টায়। যে আমাদের অপমান করে চলে গেছে, তাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি; যে আমাদের চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তার ভুল ভাঙানোর জন্য আমরা দ্বারে দ্বারে কৈফিয়ত দিয়ে বেড়াই। আমরা ভাবি, একদিন সবাই নিজের ভুল বুঝবে এবং আমাদের কাছে এসে ক্ষমা চাইবে।
কিন্তু সত্যি বলতে, পৃথিবীর কারো এত সময় নেই যে সে সারাক্ষণ আমাদের নিয়ে ভাববে। আর কেউ যদি আমাদের ভুল বুঝে দূরে চলেও যায়, তাতে আমাদের অস্তিত্বের কী এমন ক্ষতি হয়? যে মানুষ আমাকে চেনার জন্য আমার কৈফিয়তের অপেক্ষা করে, সে তো কোনোদিন আমার আপনই ছিল না।
জীবনের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা আসে সেই দিন, যেদিন মানুষ তর্কের মাঝখানে হঠাৎ চুপ করে যেতে শেখে। সামনের মানুষটি যখন গালি দিচ্ছে বা ভুল দোষারোপ করছে, তখন কোনো পাল্টা যুক্তি না দিয়ে কেবল মৃদু হেসে বলা, বেশ তো, তুমি যা ভাবছ তা-ই ঠিক। কাউকে কিছু প্রমাণ করার এই ক্লান্তিকর দায় থেকে যে মুহূর্তে মানুষ নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার মাথার ওপর থেকে এক বিশাল কালো মেঘ সরে গিয়ে ঝকঝকে নীল আকাশ বেরিয়ে আসে।