পর্ব ৩: রক্তমাংসের অলিখিত ঋণ ও গোপন ক্ষত

অধ্যায় ২৫ডায়াল প্যাডে কেটে দেওয়া কল

ফোন নাম্বার তুলে বহুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অবশেষে কেটে দেওয়া

৪ মিনিট পাঠ

ফোনের স্ক্রিনে খুব চেনা এগারোটা ডিজিট তোলা আছে, আর বুড়ো আঙুলটা সবুজ রঙের কল বাটনের ঠিক এক মিলিমিটার ওপরে স্থির হয়ে কাঁপছে। বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। পাঁচ মিনিট ধরে ওই নাম্বারটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে মানুষটা ব্যাকস্পেস চেপে এক এক করে সবগুলো ডিজিট মুছে ফেলে ফোনটা উপুড় করে রেখে দেয়।

রক্তের সম্পর্কের ভেতর কিংবা খুব কাছের মানুষের সাথে যখন অভিমানের দেয়াল ওঠে, তখন সেই দেয়াল ভাঙা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো সামান্য কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, হয়তো সম্পত্তি বা সংসারের তুচ্ছ কোনো কথা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারপর মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে, কেউ আর কারো খবরাখবর নেয়নি। উভয়েই অপেক্ষা করে আছে, ওপাশ থেকে কেন আগে ফোনটা আসছে না।

কিন্তু উৎসবের দিনে কিংবা হঠাৎ কোনো অসুখের রাতে মানুষের মন তো আর এই অহংকারের যুক্তি মানে না। তখন মনে পড়ে ছোটবেলার কথা, মনে পড়ে একসাথে বড় হওয়ার দিনগুলোর কথা। স্নেহের টানে হাতটা নিশপিশ করে ওঠে কথা বলার জন্য। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায় এক অদৃশ্য পাহাড়, যার নাম আত্মসম্মান বা ইগো। মনে হয়, এতদিন পর ফোন করলে ও যদি ভাবে আমি হেরে গেছি? ও যদি আগের মতো গলা খুলে কথা না বলে কেবল সৌজন্য দেখায়?

এই ভয়ের কাছে ভালোবাসা প্রতিদিন হেরে যায়। ডায়াল প্যাডে তোলা নাম্বারগুলো ডায়াল প্যাডেই মরে যায়, কোনোদিন রিং হয়ে অপর প্রান্তে বাজে না। তারপর একদিন হঠাৎ অন্য কারো ফোনে খবর আসে, সেই মানুষটি আর নেই। তখন ওই নাম্বারে হাজার বার কল দিলেও ওপাশ থেকে কেবল যান্ত্রিক কণ্ঠে ভেসে আসে, এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।