অধ্যায় ৪৪উপসংহার: এখন যে কটা দিন বাঁচি, সূর্যে সূর্যে হাঁটি
সব না-বলা কথাকে বিদায় জানিয়ে রোদ মেখে শান্ত মনে সামনে এগিয়ে যাওয়া
অন্ধকার ঘরের ভারী পর্দাটা একটানে সরিয়ে দিতেই সকালের কাঁচা রোদ এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিছানার ওপর, চোখের পাতায় আর জমে থাকা ধুলোর কণায়। রোদের সেই উষ্ণ স্পর্শে শরীরের সমস্ত জড়তা ভেঙে একটা লম্বা হাই ওঠে, আর মনে হয়, যাক, রাতটা তাহলে সত্যিই শেষ হয়েছে।
এতদিন ধরে বুকের সিন্দুকে যে হাজারটা না-বলা কথা, না-পাঠানো চিঠি আর পুরনো মানুষের স্মৃতি আমরা যক্ষের ধনের মতো আগলে বসে ছিলাম, আজ এই ঝকঝকে রোদের আলোয় সেগুলোকে আর কোনো বোঝা বলে মনে হচ্ছে না। যে কথাগুলো বলা যায়নি, তা না-বলাই থাক। যে মানুষগুলো আমাদের বোঝেনি, তারা তাদের মতো ভালো থাকুক। যে ক্ষমাটুকু পাওয়া হয়নি, তা আজ আমরা নিজেরাই নিজেদের করে দিলাম। অতীতের ওই অন্ধকার কবরখানায় ফুল দেওয়ার পালা আজ থেকে চিরতরে সমাপ্ত।
হাতে তো আর খুব বেশি সময় নেই। জীবনের ঘড়িটা টিকটিক করে ফুরিয়ে আসছে প্রতিদিন। এই সামান্য যে কটা দিন এখনো আমাদের হাতে অবশিষ্ট আছে, তা কি কেবলই ঘরের কোণে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলার জন্য? মোটেই না। বাইরে তাকিয়ে দেখুন, আকাশটা আজ কী আশ্চর্য নীল, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে কেটলি থেকে কী সুন্দর ধোঁয়া উঠছে, আর রোদের ভেতর দিয়ে মানুষজন হেঁটে যাচ্ছে।
তাই আজ আর কোনো অভিযোগ নয়, কোনো অভিমান নয়, কোনো মুখোশও নয়। বুকের ভেতরকার ওই নিভৃত মানচিত্রটাকে সযত্নে ভাঁজ করে বুকপকেটে রেখে এবার সদর দরজা খুলে বাইরে নামার পালা। জীবনানন্দ ও সঞ্জীবের সেই বিষাদ ও আনন্দের হাত ধরে আমরা কেবল এইটুকুই বলব: যা গেছে তা যাক, এখন যে কটা দিন বাঁচি, চলুন বুক ভরে রোদ মেখে সূর্যে সূর্যে হাঁটি।