অধ্যায় ৩৫সব প্রশ্নের উত্তর পেতে নেই
জীবনের সব গল্পের সমাপ্তি সুন্দর হয় না, ছেঁড়া পাতা নিয়েই বই বন্ধ করতে শেখা
কেন সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল? আমার অপরাধটা ঠিক কী ছিল? কেন আমার সাথেই বারবার এমন হয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে মানুষের মাথার চুল পেকে যায়, চোখের জ্যোতি কমে আসে, তবু কোনো সদুত্তর মেলে না। মস্তিষ্কের রগগুলো দপদপ করে ওঠে, মনে হয় ওই মানুষটার মুখোমুখি বসে একবার যদি কৈফিয়তটা আদায় করা যেত, তবে হয়তো শান্তিতে মরা যেত।
কিন্তু বয়স ও প্রজ্ঞা মানুষকে একদিন কানে কানে এসে বলে দেয়, সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেই। জীবনের অঙ্ক বইয়ের পেছনের পাতায় কোনো উত্তরমালা ছাপা থাকে না। কিছু মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের জীবন থেকে চলে যায়, কিছু ভালোবাসা কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও মাঝপথে মরে যায়, আর কিছু অন্যায়ের কোনো বিচার এই পৃথিবীতে হয় না। এটাই জগতের নিয়ম, এটাই জীবনের অমসৃণ জ্যামিতি।
আমরা আসলে উত্তর চাই না, আমরা চাই সান্ত্বনা। আমরা ভাবি, কারণটা জানতে পারলে হয়তো ব্যথাটা কমবে। অথচ সত্য হলো, ওপাশের মানুষটি যদি আজ এসে তার চলে যাওয়ার কারণটা ব্যাখ্যাও করে, তবু কি আমাদের বুকের এই শূন্যতাটুকু ভরাট হবে? মোটেই না। বরং তার সেই যুক্তির অসারতা আমাদের আরও বেশি ক্ষতবিক্ষত করবে।
তাই যে বইয়ের শেষ কয়েকটি পাতা উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে কিংবা কেউ ছিঁড়ে নিয়ে চলে গেছে, সেই বইয়ের শেষটুকু জানার জন্য পাগলের মতো ছটফট না করে, ওই ছেঁড়া পাতা সমেতই বইটা শান্ত হাতে বন্ধ করে রাখতে শেখাটাই হলো মুক্তি। উত্তর না পাওয়ার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক চূড়ান্ত উত্তর: যা ঘটার ছিল তা ঘটে গেছে, এখন কেবল পাতা উল্টে সামনের দিকে হাঁটার সময়।